About Me

header ads

বড়ো দিন । জীৎসোমা

বিভাগ: গল্প
- Jitsoma Bandopadhyay
শিরোনাম:বড়ো দিন।
_________________


চব্বিশে ডিসেম্বর রাত বারোটা। পার্ল ম্যাস্কোরেডার্স নিজের ঘরের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলছে। আকাশের দিকে চেয়ে মনে মনে বলছে,"প্রভু এ যন্ত্রনা থেকে কি মুক্তি নেই আমার।আমায় ক্ষমা করো,একটু দয়া কর প্রভু।" কিছুক্ষণ পর মেয়ের এমিলির ঘরে গিয়ে আস্তে আস্তে ওর বিছানায় সব উপহার গুলো রেখে এল। তারপর নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ল। পরদিন এমিলির চিৎকারে ওর ঘুম ভাঙ্গলো।

" মাম্মি সারা বিছানায় শুধু গিফ্ট আর গিফ্ট। তুমি কখন আনলে বলো তো? লভ ইউ মাম্মি। মেরি ক্রিসমাস। আজ চা আমি করব।"

" লভ ইউ টু ডার্লিং। পেপারটা দিয়ে যা না বাবু।"
খবরের কাগজটা মাকে দিয়ে এমিলি রান্নাঘরে গেল চা করার জন্য। খবরের কাগজটা খুলে একটা খবর দেখেই পার্ল চমকে উঠল। লেখা ছিল,
লটকা নামের কুখ্যাত সমাজ বিরোধী খুন। পার্ল এক নিঃশ্বাসে খবরটা পড়ে ফেলে। কে বা কারা লটকাকে গলা কেটে ফেলে রেখে গেছে তার ই ঘরে। পুলিশের সন্দেহ ওর দলের লোকজনের ই কাজ। তোলাবাজি, ইভটিজিং, রেপ, মার্ডারের বেশ অনেকগুলো কেস ছিল ওর নামে। পুলিশ নাকি ওকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। খবরের কাগজ থেকে মুখ তুলে পার্ল মাথার কাছে রাখা যিশুর ছবিটা ধরে অঝরে কাঁদতে থাকে আর বলতে থাকে,

"প্রভু তুমি আছো, তুমি আছো। এই দু'বছর শুধু তোমায় ডেকেছি। ভেবেছি আমিই পাপী। আমি পারিনি লড়াই করতে শুধু এমিলির মুখ চেয়ে। ক্ষমা করো প্রভু আমাকে।"

এমিলি মায়ের কান্না শুনে ছুটে এসে পার্লকে জড়িয়ে ধরে।

"মাম্মি কাঁদছ কেন? কি হয়েছে? বলো আমাকে বলো।"

পার্ল মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বলে," প্রভু জাস্টিস করেছেন। আমার মনের সব কালো উনি ধুয়িয়ে দিলেন আজকের দিনে। আজ সত্যি বড়ো দিন।

দু'বছর আগে চব্বিশে ডিসেম্বর পার্লের অফিস থেকে ফিরতে দেরি হয়ে গেছিল। বাড়িতে মেয়ে একা আছে। সে বিধবা। এমিলি যখন চার বছরের তখন পার্লের স্বামী হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। সেদিন বাস থেকে নেমে পার্ল প্রায় ছুটছিল। হঠাৎ সামনে এসে দাঁড়ায় লটকা আর তার দলবল।

"কি বাওয়া বেধবা বৌদি ? এত সাজ কিসের? কার জন্য? তা আমাদেরকেও এট্টু সুযোগ দাওনা। আমার ও তো পারি বাওয়া জাওয়ানির পিয়াস বুঝাতে। বলো তো চলে আসব তোমার বাড়িতে?"

পার্ল বলে,"আমাকে যেতে দিন।"

লটকা হঠাৎ এগিয়ে এসে পার্লের গালে ওর লকলকে তপ্ত জিভটা ছুঁয়িয়ে দিয়ে বলে," যাও"। যেই পার্ল যেতে উদ্যত হয় ওমনি লটকা ওর নিতম্ব খাঁমচে ধরে বিকট হেসে ওঠে। পার্ল কোনো রকমে পালিয়ে আসে। পরদিন থানায় গিয়ে বললে সবাই মুখ টিপে হাসে। কিছু করেনি পুলিশ। তারপর থেকে নরক যন্ত্রনা ভোগ করেছে পার্ল । শুধু পার্ল কেন কত মেয়েকে যে ও এইভাবে অপমান করেছে তা হয়ত গুণে বলা যাবেনা। নেতার চামচা বলে পুলিশ ও চুপ। কিন্তু কর্মের ফল যাবে কোথায়?

জীৎসোমা।

Post a Comment

0 Comments