ধর্ম ধর্ম আর ধর্ম
সবার উপরে কর্ম।
- সুজাতা দে।
গল্পকারের চোখে ঘটনাঃ-
ঘটনাঃ-১) একমাত্র লেড়কা রফিকের ইমিডিয়েট একটা কিডনির প্রয়োজন। না হলে যুবক ছেলেটাকে বাঁচানো যাবে না। পেপারে এড দিয়েও কিছু লাভ হয়নি। বৃদ্ধ পিতা আব্দুল নার্সিং হোমের চেয়ারে কান্নায় ভেঙে পড়ে আল্লার কাছে কাতর আর্জি জানিয়ে চলেছে। আব্দুলের চার কন্যা আর তাদের মরদেরা নীরব দর্শক।প্রতিবেশী যুবক সুলতান ওনার পিঠে হাত বুলিয়ে চলেছে। বন্ধু মইদুল স্বান্তনা দিচ্ছে ক্রন্দনরত আবদুলকে। পাড়ার বন্ধুর সিরিয়াস অবস্থায় এগিয়ে এল তপন। আবদুলকে বলল কাঁদবেন না চাচা। চিন্তা করবেন না। আমি রফিককে আমার একটা কিডনি দান করব। আব্দুল আনন্দে ভিন্নধর্মী তপনকে দুহাতে জড়িয়ে ধরল। মনে হলো তপন যেন আল্লার প্রেরিত দূত।
ঘটনাঃ-২) অফিস যাবার পথে কার এক্সিডেন্টে মরণাপন্ন বিকাশ। সিরিয়াসলি ইনজুরিতে রক্ত বন্ধ হচ্ছে না। বিকাশের। নার্সিংহোমের স্টক শেষ, "নেগেটিভ ও" গ্রুপের রক্ত কোথাও মিলছে না। শুধু মাত্র ডোনার পাওয়া গেলে তবেই তাদের স্টক থেকে বিরল গ্রুপের রক্ত দেবে ব্লাড ব্যাঙ্ক।
বিকাশের হোয়াটসঅ্যাপ দেখে তার স্ত্রী তনিমা যে কলিগের উজ্জ্বল উপস্থিতি এতোদিন সহ্য করতে পারতো না সেই রাবেয়া এগিয়ে এল। দিদি রো মত। মেরি গ্রুপ ভি সেম হ্যায়। ম্যাঁয়নে বিকাশ স্যার কো ব্লাড ডোনেট করতি হুঁ। কান্না ভুলে তনিমা জড়িয়ে ধরল ভিন্নধর্মী হাঁটুর বয়সী মেয়েটিকে। ছিঃ! এই মেয়েকে জড়িয়েই বিকাশকে সন্দেহ করে কতো কুকথা বলেছে এতোদিন!
ঘটনাঃ-৩) আজ সুনীতা আর প্রীতমের আঠারো বছরের বিবাহিত জীবন পূর্ণতা পেতে চলেছে। আজ ওরা এই মাদার ফিরোজার সংস্থা থেকে দত্তক নেবে একটা তিন বছরের পুত্রসন্তান। গোঁড়া হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারের ছেলে প্রীতমের অনেক ছুঁতমার্গ আর দ্বিধা আছে। স্ত্রী সুনীতা কিছুটা লিবারেল। তাই উদাহরণস্বরূপ পাড়ার বোসবাবুদের ফুটফুটে একরত্তি পুতুলের মতো মিষ্টি দত্তক কন্যাকে দেখিয়ে অনেক কষ্টে নিজের স্বামীকে দত্তক নিতে রাজী করাতে পেরেছে। সংস্থাটিতে শিশুটির পূর্ব পরিচয় দেওয়ার নিয়ম নেই জেনেও মুখ ফস্কে প্রশ্নটা করেই ফেলল প্রীতম। প্লিজ আমাকে বলুন না বাচ্চাটি কোন ধর্মের?
সরি মিস্টার ব্যানার্জি আমরা আপনাদের শিশুটিকে দত্তক দিতে পারলাম না। ফ্যামিলি যথেষ্ট উদার মনের না হলে আমরা সেখানে কোনো বাচ্চাকে এলাউ করি না।
চোখের জলে আজ বৃদ্ধাশ্রমে বসে পরোলকগতা স্ত্রী সুনীতার কাছে ক্ষমাভিক্ষা চাইতে গিয়ে বিকাশের এই যন্ত্রণাময় স্মৃতিচারণ। সেদিন যদি আরও একটু লিবারেল হতে পারতো....।
সংস্থা থেকে বাড়িতে ফিরে আসবার পরের দিনই সুনীতা সুইসাইড করেছিল। প্রায় সারা বছরই অফিস ট্যুরে ঘুরতো বিকাশ। একা বাড়িতে কাটাতো সুনীতা। সমাজ জেনেছিল সুনীতার মৃত্যুটা সারাটাদিন বাড়িতে একাকীত্বের ফ্রাস্টেশন এর ফল। বিকাশ একমাত্র আসল কারণটা বুঝেছিল। কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে তখন।
----------------------------------------------
সবার আগে আপনি একজন মানুষ। সেখানেই ঈশ্বরের বাস।
ধর্ম সৃষ্টি করেছে মানুষের সৃষ্ট সমাজ। ঈশ্বর বা আল্লা নয়।
@ সুজাতা দে।
সবার উপরে কর্ম।
- সুজাতা দে।
গল্পকারের চোখে ঘটনাঃ-
ঘটনাঃ-১) একমাত্র লেড়কা রফিকের ইমিডিয়েট একটা কিডনির প্রয়োজন। না হলে যুবক ছেলেটাকে বাঁচানো যাবে না। পেপারে এড দিয়েও কিছু লাভ হয়নি। বৃদ্ধ পিতা আব্দুল নার্সিং হোমের চেয়ারে কান্নায় ভেঙে পড়ে আল্লার কাছে কাতর আর্জি জানিয়ে চলেছে। আব্দুলের চার কন্যা আর তাদের মরদেরা নীরব দর্শক।প্রতিবেশী যুবক সুলতান ওনার পিঠে হাত বুলিয়ে চলেছে। বন্ধু মইদুল স্বান্তনা দিচ্ছে ক্রন্দনরত আবদুলকে। পাড়ার বন্ধুর সিরিয়াস অবস্থায় এগিয়ে এল তপন। আবদুলকে বলল কাঁদবেন না চাচা। চিন্তা করবেন না। আমি রফিককে আমার একটা কিডনি দান করব। আব্দুল আনন্দে ভিন্নধর্মী তপনকে দুহাতে জড়িয়ে ধরল। মনে হলো তপন যেন আল্লার প্রেরিত দূত।
ঘটনাঃ-২) অফিস যাবার পথে কার এক্সিডেন্টে মরণাপন্ন বিকাশ। সিরিয়াসলি ইনজুরিতে রক্ত বন্ধ হচ্ছে না। বিকাশের। নার্সিংহোমের স্টক শেষ, "নেগেটিভ ও" গ্রুপের রক্ত কোথাও মিলছে না। শুধু মাত্র ডোনার পাওয়া গেলে তবেই তাদের স্টক থেকে বিরল গ্রুপের রক্ত দেবে ব্লাড ব্যাঙ্ক।
বিকাশের হোয়াটসঅ্যাপ দেখে তার স্ত্রী তনিমা যে কলিগের উজ্জ্বল উপস্থিতি এতোদিন সহ্য করতে পারতো না সেই রাবেয়া এগিয়ে এল। দিদি রো মত। মেরি গ্রুপ ভি সেম হ্যায়। ম্যাঁয়নে বিকাশ স্যার কো ব্লাড ডোনেট করতি হুঁ। কান্না ভুলে তনিমা জড়িয়ে ধরল ভিন্নধর্মী হাঁটুর বয়সী মেয়েটিকে। ছিঃ! এই মেয়েকে জড়িয়েই বিকাশকে সন্দেহ করে কতো কুকথা বলেছে এতোদিন!
ঘটনাঃ-৩) আজ সুনীতা আর প্রীতমের আঠারো বছরের বিবাহিত জীবন পূর্ণতা পেতে চলেছে। আজ ওরা এই মাদার ফিরোজার সংস্থা থেকে দত্তক নেবে একটা তিন বছরের পুত্রসন্তান। গোঁড়া হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারের ছেলে প্রীতমের অনেক ছুঁতমার্গ আর দ্বিধা আছে। স্ত্রী সুনীতা কিছুটা লিবারেল। তাই উদাহরণস্বরূপ পাড়ার বোসবাবুদের ফুটফুটে একরত্তি পুতুলের মতো মিষ্টি দত্তক কন্যাকে দেখিয়ে অনেক কষ্টে নিজের স্বামীকে দত্তক নিতে রাজী করাতে পেরেছে। সংস্থাটিতে শিশুটির পূর্ব পরিচয় দেওয়ার নিয়ম নেই জেনেও মুখ ফস্কে প্রশ্নটা করেই ফেলল প্রীতম। প্লিজ আমাকে বলুন না বাচ্চাটি কোন ধর্মের?
সরি মিস্টার ব্যানার্জি আমরা আপনাদের শিশুটিকে দত্তক দিতে পারলাম না। ফ্যামিলি যথেষ্ট উদার মনের না হলে আমরা সেখানে কোনো বাচ্চাকে এলাউ করি না।
চোখের জলে আজ বৃদ্ধাশ্রমে বসে পরোলকগতা স্ত্রী সুনীতার কাছে ক্ষমাভিক্ষা চাইতে গিয়ে বিকাশের এই যন্ত্রণাময় স্মৃতিচারণ। সেদিন যদি আরও একটু লিবারেল হতে পারতো....।
সংস্থা থেকে বাড়িতে ফিরে আসবার পরের দিনই সুনীতা সুইসাইড করেছিল। প্রায় সারা বছরই অফিস ট্যুরে ঘুরতো বিকাশ। একা বাড়িতে কাটাতো সুনীতা। সমাজ জেনেছিল সুনীতার মৃত্যুটা সারাটাদিন বাড়িতে একাকীত্বের ফ্রাস্টেশন এর ফল। বিকাশ একমাত্র আসল কারণটা বুঝেছিল। কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে তখন।
----------------------------------------------
সবার আগে আপনি একজন মানুষ। সেখানেই ঈশ্বরের বাস।
ধর্ম সৃষ্টি করেছে মানুষের সৃষ্ট সমাজ। ঈশ্বর বা আল্লা নয়।
@ সুজাতা দে।


0 Comments