#আজ_একটি_শতক_পেরিয়ে_যাওয়া_বহুপঠিত_কবিতার_অনুবাদ (#কালস্রোতে থেকে)
সোমা মুখার্জী
কবি-উইলিয়ম ওয়র্ডসওয়ার্থ
মূলকবিতা- #লুসি_গ্রে
#লুসির_কথা
প্রায়ই আমি শুনি লুসির গান
যখন আমি পেরোই বনের পথ
ভোরের বেলা দেখেছিলেম তাকে
সুন্দর সেই বনের শিশু যায় পেরিয়ে অন্ধকারের পথ।
নেই তো কোনো বন্ধু ও বান্ধবী
পাহাড়ি সেই উপত্যকায় থাকে
সবুজ ছাওয়া ঘন উপত্যকা
মাথার ওপর সুনীল আকাশ হাতছানি দেয় তাকে।
আড়াল থেকে দেখতে তুমি পাবে
চপল যত হরিণ শিশু সেথায় করে খেলা
ঘাসে ছাওয়া ঘন বনের পারে
খরগোশেরা লাগায় যেন হুটোপুটির মেলা।
বনের শিশু লুসির সে মুখ
আর নাহি যায় দেখা
যেন কোথায় অচিনপুরে হারায় তারি পথ,
বনের মাঝে চলছে সে আজ একা।
বাবা তারে বলল হঠাৎ ডেকে
"আজকে রাতে আসবে ভীষণ ঝড়,
লুসি তুমি যাও তো শহর পানে
সাথে নিও একখানি লন্ঠন।
মায়ের কাছে নেই তো কোনো আলো,
তুষার ঢাকা পথ দিয়ে তায় এনো তো সাবধানে।"
"যাব বাবা" খুশীতে উচ্ছল ,বলল লুসি
বাহির পানে চেয়ে।
ছায়াচ্ছন্ন মেঘলা দুপুর বেলা
গীর্জাতে ওই দুটোর ঘন্টা বাজে,
চাঁদের আলো নামছে যেন
আজকে দিনের বেলা।
লুসির বাবা সারে দিনের কাজ কাস্তে নিয়ে হাতে,
লুসি চলে আলো নিয়ে ঘন বনের পথে।
আনমনে সে এগিয়ে চলে
ছোটছোট পাহাড় গুলির মাঝে,
পা'দুটি তার অজানিতেই
বিপদ মাঝে রাজে।
তুষার ঢাকা পাহাড় মাঝে পা গুলি যায় ডুবে
ধোঁয়ার মত বাষ্প যেন আকাশে যায় উবে।
সাঁঝ না হতেই হঠাৎ এল ঝড়,
বরফ ঢাকা পথের পরে বেড়ায় লুসি ঘুরে।
পেরিয়ে চলে চড়াই ও উতরাই
শহর তখন তাহার থেকে অনেক অনেক দূরে।
রাত নেমেছে, লুসির মা ও বাবা
খুঁজতে থাকে কাছের থেকে দূরে
কিন্তু কোথাও পায় না তারি দেখা
বরফ ঢাকা পথের পরে বৃথাই মরে ঘুরে।
ভোরের আলো পড়ে এসে
বরফ ঢাকা উপত্যকার পরে,
একটু দূরে ওই দেখা যায় ছোট্ট কাঠের ব্রীজ,
ঘরের থেকে কয়ক যোজন দূরে।
তুষার ঢাকা পথের পরে হঠাৎ দেখে
ছোট্ট লুসির পায়ের ছাপে ভরা।
দৌড়ে আসে ঘরের পানে, তাদের আকুল ক্রন্দনেতে
আর্ত যে হয় ধরা।
পাহাড়ের ওই ওপর থেকে নীচের দিকে নামে,
ছোট্ট ছোট্ট পায়েরই ছাপগুলি
ওই চলেছে থেমে থেমে,
যেখানে দিয়ে পাথর দেওয়াল চলছে এঁকেবেঁকে,
কাঁটাঝোপের জঙ্গলেতে যেথায় আছে ঢেকে।
পেরিয়ে গেল বরফ ঢাকা খোলা সে প্রান্তর,
ছোট্ট পায়ের ছাপগুলিও চলে নিরন্তর।
পায়ের চিহ্ন দেখে তারা সেথায় আসে নেমে,
সেই যেখানে ব্রীজের কাছে পথ গিয়েছে থেমে।
পায়ের চিহ্ন ধরে ধরে সেথায় তারা আসে,
বরফ ঢাকা নদীর তীরে ফিরে পাবার আশে।
কিন্তু সে হায় ছোট্ট লুসি, নেই তো তারি দেখা
শূন্য কাঠের তক্তা খানি পড়েই আছে একা।
তবু আজও যায় যে শোনা লুসির মধুর সুর
কোন সে গহন বনের পথে বাজে তার নূপুর।
যায় পেরিয়ে ধূসর সে মাঠ শ্যামল প্রান্তর
পিছন ফিরে দেখে না আর চেয়ে,
সবুজ ঘন বনের মাঝে তাহার সুরের মায়া
বাতাস ফেলে ছেয়ে।।
সোমা মুখার্জী
কবি-উইলিয়ম ওয়র্ডসওয়ার্থ
মূলকবিতা- #লুসি_গ্রে
#লুসির_কথা
প্রায়ই আমি শুনি লুসির গান
যখন আমি পেরোই বনের পথ
ভোরের বেলা দেখেছিলেম তাকে
সুন্দর সেই বনের শিশু যায় পেরিয়ে অন্ধকারের পথ।
নেই তো কোনো বন্ধু ও বান্ধবী
পাহাড়ি সেই উপত্যকায় থাকে
সবুজ ছাওয়া ঘন উপত্যকা
মাথার ওপর সুনীল আকাশ হাতছানি দেয় তাকে।
আড়াল থেকে দেখতে তুমি পাবে
চপল যত হরিণ শিশু সেথায় করে খেলা
ঘাসে ছাওয়া ঘন বনের পারে
খরগোশেরা লাগায় যেন হুটোপুটির মেলা।
বনের শিশু লুসির সে মুখ
আর নাহি যায় দেখা
যেন কোথায় অচিনপুরে হারায় তারি পথ,
বনের মাঝে চলছে সে আজ একা।
বাবা তারে বলল হঠাৎ ডেকে
"আজকে রাতে আসবে ভীষণ ঝড়,
লুসি তুমি যাও তো শহর পানে
সাথে নিও একখানি লন্ঠন।
মায়ের কাছে নেই তো কোনো আলো,
তুষার ঢাকা পথ দিয়ে তায় এনো তো সাবধানে।"
"যাব বাবা" খুশীতে উচ্ছল ,বলল লুসি
বাহির পানে চেয়ে।
ছায়াচ্ছন্ন মেঘলা দুপুর বেলা
গীর্জাতে ওই দুটোর ঘন্টা বাজে,
চাঁদের আলো নামছে যেন
আজকে দিনের বেলা।
লুসির বাবা সারে দিনের কাজ কাস্তে নিয়ে হাতে,
লুসি চলে আলো নিয়ে ঘন বনের পথে।
আনমনে সে এগিয়ে চলে
ছোটছোট পাহাড় গুলির মাঝে,
পা'দুটি তার অজানিতেই
বিপদ মাঝে রাজে।
তুষার ঢাকা পাহাড় মাঝে পা গুলি যায় ডুবে
ধোঁয়ার মত বাষ্প যেন আকাশে যায় উবে।
সাঁঝ না হতেই হঠাৎ এল ঝড়,
বরফ ঢাকা পথের পরে বেড়ায় লুসি ঘুরে।
পেরিয়ে চলে চড়াই ও উতরাই
শহর তখন তাহার থেকে অনেক অনেক দূরে।
রাত নেমেছে, লুসির মা ও বাবা
খুঁজতে থাকে কাছের থেকে দূরে
কিন্তু কোথাও পায় না তারি দেখা
বরফ ঢাকা পথের পরে বৃথাই মরে ঘুরে।
ভোরের আলো পড়ে এসে
বরফ ঢাকা উপত্যকার পরে,
একটু দূরে ওই দেখা যায় ছোট্ট কাঠের ব্রীজ,
ঘরের থেকে কয়ক যোজন দূরে।
তুষার ঢাকা পথের পরে হঠাৎ দেখে
ছোট্ট লুসির পায়ের ছাপে ভরা।
দৌড়ে আসে ঘরের পানে, তাদের আকুল ক্রন্দনেতে
আর্ত যে হয় ধরা।
পাহাড়ের ওই ওপর থেকে নীচের দিকে নামে,
ছোট্ট ছোট্ট পায়েরই ছাপগুলি
ওই চলেছে থেমে থেমে,
যেখানে দিয়ে পাথর দেওয়াল চলছে এঁকেবেঁকে,
কাঁটাঝোপের জঙ্গলেতে যেথায় আছে ঢেকে।
পেরিয়ে গেল বরফ ঢাকা খোলা সে প্রান্তর,
ছোট্ট পায়ের ছাপগুলিও চলে নিরন্তর।
পায়ের চিহ্ন দেখে তারা সেথায় আসে নেমে,
সেই যেখানে ব্রীজের কাছে পথ গিয়েছে থেমে।
পায়ের চিহ্ন ধরে ধরে সেথায় তারা আসে,
বরফ ঢাকা নদীর তীরে ফিরে পাবার আশে।
কিন্তু সে হায় ছোট্ট লুসি, নেই তো তারি দেখা
শূন্য কাঠের তক্তা খানি পড়েই আছে একা।
তবু আজও যায় যে শোনা লুসির মধুর সুর
কোন সে গহন বনের পথে বাজে তার নূপুর।
যায় পেরিয়ে ধূসর সে মাঠ শ্যামল প্রান্তর
পিছন ফিরে দেখে না আর চেয়ে,
সবুজ ঘন বনের মাঝে তাহার সুরের মায়া
বাতাস ফেলে ছেয়ে।।


0 Comments